আগ্রহ কী বা কাকে বলে ? শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা আলোচনা করো ?

আগ্রহ কী বা কাকে বলে ? শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা আলোচনা করো ?
আগ্রহ কী বা কাকে বলে ? শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা আলোচনা করো ?

আগ্রহ কী (What is Interest) বা কাকে বলে ? শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা আলোচনা করো ?

 আগ্রহ কী জানতে হলে তার অর্থ জানতে হবে। আগ্রহ শব্দটির ইংরেজি শব্দ হল “ Interest” এটি ল্যতিন শব্দ । যার অর্থ হল “It matters”  বা “ It concerns” । অর্থাত্‍ আমাদের আগ্রহের বিষয়বস্তু হল সেইগুলি যেগুলি আমাদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।

আগ্রহ বা অনুরাগ হল শিখনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অনুরাগ হল এমন একটি অভ্যন্তরীণ মানসিক অবস্থা যা ব্যক্তিকে কোনো বিষয় , বস্তু বা কাজের প্রতি মনোযোগী করে তোলে।

অনুরাগের সংজ্ঞা:

বিভিন্ন মনোবিদ  আগ্রহের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। যেমন-

মনোবিদ ম্যাগডুগালের মতে, -“ অনুরাগ হল সুপ্ত মনোযোগ এবং মনোযোগ হল ক্রিয়াশীল  অনুরাগ ”

ড্রিভারের মতে,- “ অনুরাগ হল এক প্রকার গতিশীল মানসিক অবস্থা ।“

মনোবিদ জোন্সের মতে, -“ আগ্রহ বলতে আমরা বুঝি বাস্তব বা কাল্পনিক কোনো বস্তু বা অবস্থার প্রতি আনন্দের অনুভূতি যা ব্যক্তিকে কিছু করতে উদবুদ্ধ করে।“

সুতরাং সংজ্ঞা গুলি বিশ্লেষণ করলে বলা যায় আগ্রহ হল ব্যক্তির একটি স্থায়ী প্রবণতা। যা ব্যক্তির সুপ্ত মনোযোগকে গতিশীল করে তোলে এবং বহুমুখী  কাজ করতে উদবুদ্ধ করে।

অনুরাগের বৈশিষ্ট্য:

উপরের সংজ্ঞা থেকে আগ্রহের কতক গুলি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় –

১. বংশগত ও অর্জিত: আগ্রহ হল অর্জিত । বিভিন্ন পরিবেশে ক্রিয়া -প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। তবে এতে বংশধারারও কিছু প্রভাব দেখা যায়।

২. বিকাশশীল: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুরাগেরও বিকাশ হতে থাকে । শৈশবে যে সমস্ত বস্তুর প্রতি শিশুর আগ্রহ দেখা যায় কৈশোরে সেই বস্তুর প্রতি তার আগ্রহ নাও থাকতে পারে।

৩. পরিবেশ নির্ভর: শিশুর অনুরাগ তার সমাজ পরিবেশের উপর নির্ভরশীল । শিশু যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ তার আচরণ কে প্রভাবিত করে । এই আচরণ শিশুর আগ্রহ নির্ধারণ করে । তাই গ্রাম্যঞ্চল ও শহরাঞ্চলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আগ্রহের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।

৪. ব্যক্তিগত: অনুরাগ ব্যক্তি নির্ভর । ব্যাক্তি যে বিষয়ে আগ্রহী হয় সেই বিষয়ে তার অনুরাগ জন্মায় ।

৫. চাহিদা নির্ভর: ব্যক্তির অভাববোধ  থেকে  জন্ম নেয় চাহিদার । আর তখন থেকেই বস্তু বা বিষয়ের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হয়।

৬. প্রেষণা মূলক: প্রেষণা শিক্ষার্থীকে তার কাজ করতে প্রেরণা যোগায় । ফলে তার কাজের প্রতি আগ্রহ দেখা দেয়।

৭. পরিবর্তনশীল: ব্যক্তির মধ্যে কোনো বিষয় সম্পর্কে সবসময় একইরকম অনুরাগ থাকে না । কোন কাজ করতে গিয়ে ব্যক্তির মধ্যে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী  অনুরাগেরও  পরিবর্তন হয়।

৮. সক্রিয়তা: কোনো ব্যক্তির মধ্যে অনুরাগ সৃষ্টি করতে হলে, ব্যক্তির সক্রিয়তা একান্ত প্রয়োজন।

সুতরাং বলা যায় আগ্রহ হল অর্জিত, বিকাশশীল , পরিবেশগত ,পরিবর্তনশীল প্রেষণাগত ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়া ।

আগ্রহ বা অনুরাগ সৃষ্টিকারী উপাদান গুলি কি কি ?

 অনুরাগ সৃষ্টিকারী উপদানগুলিকে দুইভাগে ভাগ করা যায়- ক) ব্যক্তিগত উপাদান খ) পরিবেশগত উপাদান

ক ) ব্যক্তিগত উপাদান :

  • শারীরিক স্বাস্থ্য ও বিকাশ
  • মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশ
  • বয়স
  • লিঙ্গ
  • চাহিদা
  • অন্যান্য- ক্ষমতা, আদর্শ, প্রেষণা, অনুভুতি, ইচ্ছা ও প্রক্ষোভ ইত্যাদি।

খ) পরিবেশগত উপাদান:

  • পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা
  • সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো
  • প্রশিক্ষণ
  • সামাজিক মর্যাদা
  • অধিক সুযোগ সুবিধা

 

শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা আলোচনা করো ?

 শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা আলোচনা করো ?
শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা আলোচনা করো ?

শিশুর সামগ্রিক জীবন বিকাশে আগ্রহ গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে । শিশুর শিক্ষায়ও অনুরাগের ভূমিকা অপরিসীম । তাদের অনুরাগ বিকাশে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচী গ্রহন করা যেতে পারে-

১. সক্রিয়তা: শিক্ষার্থীদের অনুরাগ সৃষ্টি করার জন্য বিদ্যালয়ে করমকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে । এতে শিক্ষার্থীরা সক্রিয় হবে।

২. স্বাধীনতা : শিক্ষার্থী যাতে পছন্দমত বিষয় নির্বাচন করতে পারে। তার জন্য তাকে স্বাধীনতা দিতে হবে।

৩. বৃত্তিমূলক পরামর্শ দান: শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক বিষয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে না পারলে পরবর্তি কালে তারা সঠিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় । তাই শিক্ষার্থীকে কর্ম জীবনের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য আগ্রহী করে তুলতে হবে।

৪. অনুশীলনে সহায়তা: শিশুর অনুরাগ বৃদ্ধি পেলে অনুশীলনে সহায়ক হয় । এই অনুশীলন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

৫. প্রেষণার সঞ্চার: অনুরাগ শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা অভিমুখী প্রেষণা সঞ্চার করে। যা শিখন প্রক্রিয়াকে অধিক ফল্প্রসু করে।

৬. বিষয়বস্তু নির্বাচন: অনুরাগ শিক্ষার্থীকে বিষয়বস্তু নির্বাচন করতে সাহায্য করে। শিখনীয় বিষয়বস্তুর প্রতি শিক্ষার্থী আগ্রহী হলে সেই বিষয় সহজে শিখতে পারে। ফলে তারা অনুশীলনে আনন্দ পায়।

৭. মনোযোগ  বৃদ্ধি: অনুরাগ শিক্ষার্থীকে তার শিখনীয় বিষয়ে অনেকবেশি আকর্ষণীয় করে তোলে । ফলে তার মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে মনোযোগ আসে।

সুতরাং বলা যায় আগ্রহ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষক – শিক্ষিকার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তাঁরা  হবেন সুপরামর্শদাতা, বন্ধু ও পথপ্রদর্শক । যার ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের অনুকরণে আগ্রহী হবে।